নতুনদের ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে কি কি জানতে হবে?

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো, ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন করার জন্য আপনাকে ঠিক কি কি বিষয়ের উপর জ্ঞান রাখতে হবে।

এমন অনেককেই দেখেছি যারা ইন্টারনেটে থেকে অর্থ উপার্জন করতে চায়। কিন্তু, তাদের বেশিরভাগই কম্পিউটারের ব্যাসিক জানেনা। কিভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে হয়? কিভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একাউন্ট খুলতে হয়? ইত্যাদি এ ধরনের বিভিন্ন সাধারন বিষয় অনেকেই জানেন না।

তারা ভাবে ফেইসবুক মানেই ওয়েবসাইট/ফেইসবুক মানেই ইন্টারনেট। বেশিরভাগ মানুষ শুধু ফেইসবুক আর ইউটিউব নিয়েই পড়ে থাকে। এর বাহিরেও যে আলাদা একটা জগত আছে এটা কেউ জানতেই চায় না। 🙁

কম্পিউটার সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকা বা এর যথা-যথ ব্যবহার না জানাঃ

আমি নিজেও এমন দেখেছি যারা ফ্রিল্যান্সিংএ একদমই নতুন। এবং নতুন হিসেবে তারা তাদের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারটাকে শুরু করতে যাচ্ছে।

তারা মনে করে যে, কম্পিউটার কিনেই আমি কাজ শেখা শুরু করে দিব এবং অল্প কয়েকদিন পরেই আমার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে। আমি অনলাইন থেকে ডলার ইনকাম করব…!! আরো কত রঙ্গিং স্বপ্ন দেখে তারা।

আসলে ব্যপারটি এমন না। 🙁 কম্পিউটার সম্পর্কে যদি আপনার পরিপূর্ণ ধারণা না থাকে এবং আপনি যদি সঠিক ভাবে কম্পিউটার অপারেট করতে না পারেন। তাহলে, আপনাকে আগে শিখতে হবে, কিভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয় এবং এর অপারেটিং সিস্টেম টা কিভাবে কাজ করে (অর্থাৎ ব্যাসিক কম্পিউটার) ।

এর পরের ধাপে, ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করার জন্য আপনি যেকোন একটি বিষয় বাছাই করে সেটার উপরে অভিজ্ঞ হয়ে কাজ শুরু করে দিতে পারেন।

যেসব বিষয়ের উপরে দক্ষ হয়ে আপনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করতে পারবেন! সেটা জানতে আমার এই পোষ্টটি পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য কোন ধরনের কাজ শেখাটা আপনার জন্য ভালো হবে? 

এখানে কম্পিউটার সম্পর্কে ব্যাসিক ধারনা থাকার কথা বলেছি। তার মানে এই নয় যে, আপনাকে কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয়ের উপরে এক্সপার্ট হতে হবে বা এটা নিয়ে আলাদা ভাবে স্টাডি করতে হবে। অথবা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে বিষয়টি এমন নয়।

যেমন ধরুনঃ আপনি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস (Android Apps) ডেভোলপমেন্ট শিখতে চান। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ব্যাসিক কম্পিউটার সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে। তার পরে “অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভোলপমেন্টের” উপরে পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে কাজ শুরু করে দিতে পারেন।

সুতরাং বেসিক কম্পিউটার এর গুরুত্ব আপনি ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন।

ইন্টারনেট এর সঠিক ব্যবহার না জানা

বর্তমান যুগে এখনও এমন অনেকেই আছে যারা ইন্টারনেট বলতে শুধুমাত্র ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করাকে বুঝে। যদিও ধীরে ধীরে এই চিন্তা ধারার পরিবর্তন ঘটছে। মানুষ নতুনত্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং নিজেকে আপডেট রাখছে।

এর পরেও আমি এমন অনেককেই পেয়েছি যারা ইন্টারনেট বলতে শুধুমাত্র ফেসবুক ব্রাউজ করাকে বুঝে। আপনি যদি অনলাইনে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে, আপনাকে ইন্টারনেট এর যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। যদিও এটি একটি বিশাল জগত তারপরেও, যতটুকু সম্ভব সঠিক এবং পরিপূর্ণ ধারণা রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু সাধারন বিষয় আপনাকে জানতে হবে যেমনঃ

  • ওয়েবসাইট কি? বিভিন্ন ওয়েবসাইট বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কি কি ধরনের ওয়েবসাইট কি কি বিষয়ের উপরে হয়ে থাকে এবং এই ভিন্ন ভিন্ন রকমের ওয়েবসাইট গুলো কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে।
  • যেকোন একটি ওয়েবসাইটে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়? কিভাবে লগইন করতে হয়? এবং লগইন বাটন কোন জায়গায় থাকে বা কোথায় গেলে আপনি খুঁজে পাবেন।
  • কিভাবে ইমেইল ব্যবহার করতে হয়? কিভাবে একটি নতুন ইমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়? কিভাবে ইমেইল এর মাধ্যমে আপনি যেকোন ফাইল আপনার ক্লায়েন্টের কাছে পাঠাতে পারেন? ইত্যাদি বিষয়ের উপরে সম্পূর্ণ ধারনা থাকতে হবে।

মনে করেন, আপনার এক ক্লায়েন্ট আপনাকে বলছে তাকে আপনার কাজের কিছু স্যাম্পল/নমুনা পাঠাতে। এজন্য সে আপনাকে একটি ইমেইল এড্রেস দিয়েছে। আপনি যদি এই ইমেইল এড্রেস কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা না জানেন। তাহলে, আপনি আপনার ক্লায়েন্টের কাছে আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো পাঠাতে পারবেন না।

পাশাপাশি আপনার ক্লাইন্ট যদি, আপনাকে বলে, এখন স্কাইপে কথা বলতে হবে এবং আপনার স্ক্রিন শেয়ার করে ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে হবে, সে ক্ষেত্রে আপনি যদি স্কাইপ এর ব্যবহার না জানেন তাহলে আপনার জন্য এটি বেশ বিব্রতকর একটা পরিস্থিতি তৈরী হবে।

এখানে আমি মাত্র কয়েকটি বিষয়ের উদাহরন দিয়েছি। এমন আরো বিষয় আছে যেগুলা আপনাকে জানতে হবে শুরুর দিকে। সুতরাং কাজে নামার আগে নিজেকে তৈরি করুন। 🙂

নতুন কিছু পড়তে বা শিখতে অনীহা:

অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে পড়তে হবে (আপনার পছন্দের টপিক এর উপরে) নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

অর্থাৎ আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে আপনাকে ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে নতুন নতুন যে আপডেট গুলো আসবে, সেগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

মনেকরুন, আপনি কাজ শিখছেন ২০১২ সালে এখন বর্তমান ২০১৯ সাল। এই ২০১৯ সালে এসে আপনি যদি সেই ১২ সালের ডিজাইন কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করতে যান তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস গুলিতে টিকে থাকতে পারবেন না। আপনার ওই ১২ সালের ডিজাইন কনসেপ্ট ১৯ সালে এসে কোনো কাজেই আসবে না। সুতরাং আপনাকে নিত্যনতুন ট্রেন্ডিং বিষয়ের সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

আপনি আবার মনে করবেন না যে, আপনাকে নতুন করে কাজ শিখতে হবে। আসলে বিষয়টি এমন নয়। আপনার পূর্বে শেখা কাজ গুলির সাথে নতুন কিছু সংযুক্ত করতে হবে মাত্র। আপনার যদি নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে এবং পড়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে, খুব সহজে আপনি নিজেকে আপডেট রাখতে পারবেন। এটা খুব কঠিন কোন বিষয় না, এবং এটা নিজে থেকেই হয়ে যাবে।

সুতরাং নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার জন্য শুধুমাত্র পড়ার অভ্যাস থাকলেই হবে ।নতুন করে কোথাও কোর্স করতে হবে না, বা কারো কাছে যে আপনাকে কাজ শিখতে হবে না। এখন থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করুন। 

কমিউনিকেশনের জন্য বিভিন্ন ধরনের মেসেঞ্জার এর ব্যবহারঃ

অনলাইনে কাজ করতে হলে, আপনাকে যেহেতু অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাইন্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। সেজন্য, কমিউনিকেশন করার জন্য বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম আছে আর এই প্লাটফর্ম গুলো প্রত্যেকটি সম্পর্কে আপনার মোটামুটি ধারণা থাকলে চলবে।

এই প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় যে প্লাটফর্ম বা মেসেঞ্জার অপশন প্রাই সব ক্লাইন্টই ব্যবহার করে, সেটা হচ্ছেঃ Skype তারপরে দ্বিতীয় স্থানে আছে Whatsapp, এরপরে আর একটি প্ল্যাটফর্ম আছে। সেটা একেবারেই নতুন। অনেকেই এটির ব্যবহার জানে না। তারপরেও আস্তে আস্তে এর ব্যবহার বাড়ছে সেটা হচ্ছে Google Hangouts।

এখানে আমি শুধু মাত্র তিনটি মেসেঞ্জার এর কথা উল্লেখ করেছি এবং এই তিনটিই সবচেয়ে বেশি ক্লাইন্টরা ব্যবহার করে থাকে। এই তিনটি মেসেঞ্জার এর মধ্যে আপনি যদি শুধুমাত্র স্কাইপ কিভাবে ব্যবহার করতে হয়? এটি জানেন তাহলেই হবে। কারণ, ৮০ শতাংশ ক্লাইন্টই স্কাইপ ব্যবহার করে। আপনি একটি মেসেঞ্জার সম্পর্কে জানলে বাকি যতগুলি আছে সেগুলো নিজে থেকেই পারবেন। এটা কঠিন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু, তারপরও নতুনদের এই বিষয় গুলা জানা দরকার।

সুতরাং, আপনি যদি উপরের এই চারটি বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা রাখতে পারেন তাহলে, আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার শুরু করা আপনার জন্য একটু হলেও সহজ হবে।

এবং অবশ্যই আপনাকে যে কোন একটি বিষয়ের উপরে দক্ষ হতে হবে। শুধুমাত্র উপরের চারটি বিষয় জানলে হবে না। উপরের চারটি বিষয়ে একদম প্রাথমিক ধারণা থাকার জন্য আপনার জানা প্রয়োজন। কিন্তু, অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হলে, আপনাকে অবশ্যই যেকোন একটা বিষয়ের উপর কাজ শিখে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কি কি ধরনের কাজ অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়? এবং আপনার জন্য কোন কাজটি ভালো হবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে আপনি আমার এই পোষ্টটি পড়তে পারেন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য কোন ধরনের কাজ আপনি শিখতে পারেন?

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আমার লেখা আরো কিছু পোষ্ট সেগুলা পড়তে পারেন এখান থেকেঃ

সেরা ৪টি অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।
আমি কাজ পারি, বিড করে যাচ্ছি কিন্তু কাজ পাচ্ছি না।
দয়া করে আগে কাজ শিখুন। তার পরে কাজ শুরু করুন।
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য কোন ধরনের কাজ শেখাটা আপনার জন্য ভালো হবে?

এই পোষ্ট সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আপনি এই পোষ্ট এর নিছে কমেন্ট বক্সে করতে পারেন। আমি চেষ্টা করি আপনার প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার।

ধন্যবাদ। 🙂

3 thoughts on “নতুনদের ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে কি কি জানতে হবে?”

  1. খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Riad Mahmud

Riad Mahmud

Sign up for our Newsletter

Scroll to Top

start your project today