ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং কি?

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এই দুটি শব্দ প্রাই সবাই কম বেশি শুনে থাকি এখন। প্রায়ই দেখা যায় এই দুটি শব্দকে কেউ কেউ একসাথে করে ফেলে। আবার অনেকেই মনে করে দুইটা বিষয়ই একই অর্থ বহন করে।

আজকের পোস্টটা মূলত আপনাদের মনের এই ভ্রান্ত ধারনাটাকে দূর করার জন্য। আজ আমি আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সিং কি? এবং আউটসোর্সিং কি? চলুন, আর দেরি না করে শুরু করা যাক 🙂

ফ্রিল্যান্সিং কি?

“ফ্রিল্যান্সিং” এই কথাটির অর্থ হচ্ছে স্বাধীন বা মুক্ত পেশা যদি একটু অন্যভাবে বলা যায় তাহলে নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানর অধীনে কাজ না করে স্বাধীনভাবে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে।

যদি এই কথাটাকে আরো সহজ ভাবে বলি তাহলে একজন “বাদাম বিক্রেতাকেও ফ্রিল্যান্সার বলা হয়”

অর্থাৎ…

এই ধরনের পেশায় যারা নিয়োজিত থাকে তাদেরকে বলা হয় মুক্ত পেশাজীবী। চাকরিজীবীর মতো তারা কারো কাছে বেতনভুক্ত নয়। কাজ ও চুক্তির উপরে ভিত্তি করে তাদের আয়ের পরিমান কম বেশি হতে পারে। এখানে নির্দিষ্ট ভাবে কেও কারো কাছে কাজ করে না।

বিশেষ করে আমাদের দেশ সহ প্রতিবেশি দেশ ভারত এবং অন্যান্য দেশে যে মানুষগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পছন্দ করে এবং কারো অধীনে কাজ করতে চায় না এ ধরনের মানুষ গুলাই বেশীর ভাগ ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে সংযুক্ত হচ্ছে।

একজন স্বাধীন মনা লোকের কাছে এই কাজটা অত্যন্ত পছন্দনীয় কারন, তার যখন ইচ্ছা সে কাজ করতে পারবে এবং যখন ইচ্ছা সে কাজটাকে বন্ধ রাখতে পারবে। এক্ষেত্রে তাকে কাউকে কারো কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে না এই কাজগুলা ঘরে বসেই সুধু ইন্টারনেট আর কপমিউটারের মাধ্যমে সম্পন্য করা যাবে। আপনাকে বাহিরে যেয়ে কাজ করতে হবে না।

পাশাপাশি যারা ভ্রমণপিপাসু এই ধরনের মানুষের কাছে এই ফ্রিল্যান্সিং পেশাটা অনেক বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করছে। কারণ, তারা চাইলেই যেখানে সেখানে ভ্রমণ করতে পারে। এবং সাথে করে যদি শুধু একটা ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকে তাহলে তারা যেখানে খুশি সেখানে যেয়ে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে অর্থাৎ কোন বাধা নেই। 😀

আর যদি আয়ের দিক বিবেচনা করা হয় তাহলে, এই মুক্ত পেশার মাধ্যমে প্রচলিত চাকরির থেকেও অনেক বেশি ইনকাম তারা করে থাকে। সব দিক থেকে বিবেচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে ছাত্র ছাত্রী শিক্ষক সহ নানান পেশার মানুষ এ ফ্রিল্যান্সিংএর সাথে যুক্ত হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের একটা বিশাল বাজার।

আউটসোর্সিং কি?

আউটসোর্সিং এই কথাটির সাথে আমরা প্রায় সবাই কম বেশি পরিচিত। আবার অনেকেই বুঝে উঠতে পারে না যে, আউটসোর্সিং কি? আমি যদি এক কথাই বলি তাহলে আউটসোর্সিং বলতে বোঝায়ঃনিজের দেশে, নিজের ঘরে বসে আপনি যখন অন্য কোন দেশের অন্য কোন মানুষের কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে করে নিবেন এবং বিনিময় অর্থ উপার্জন করবেন সেটাকে আউটসোর্সিং বলে”।

এখন আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে যে আউটসোর্স কারা করিয়ে নেয়? অর্থাৎ আপনি কাদের হয়ে কাজ করবেন এবং কেন তারা আপনাকে কাজ দিবে?

এই প্রশ্নের উত্তরটা খুবই সহজ। ধরে নিন, আপনার একটি সফটওয়্যার কোম্পানি আছে। সেখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার রিলেটেড সার্ভিস মানুষদেরকে দিয়ে থাকেন। এখন উদাহরণস্বরূপ ধরে নিন আপনি আমেরিকাতে থাকেন। সেখানে আপনি যদি মনে করেন আমেরিকান কোন নাগরিককে আপনার কোম্পানিতে চাকরি দিবেন। তো স্বাভাবিক ভাবেই তার বেতনটা আমেরিকান নাগরিক হিসাবে অনেক বেশিই হবে।

এখন ওই একই সার্ভিস যদি আপনি আমেরিকাতে বসে বাংলাদেশ অথবা ভারতের কাউকে দিয়ে করিয়ে দেন অনলাইনের মাধ্যমে তাহলে সে ক্ষেত্রে ভারতের অথবা বাংলাদেশের ওই মানুষটাকে খুব অল্প পরিমান বেতন/টাকা দিলেই সে করে দিবে।

আবার অনেক সময় এমনও হয় যে, আপনার ছোট একটি কাজে আপনি আটকে গেছেন। সেই কাজটা যেকোনো একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি খুব সহজেই করে দিতে পারবে ৭ দিনের মধ্যে। এখন এই ছোট কাজটার জন্যে কি আপনি নতুন কাউকে নিয়োদ দিবেন আপনার অফিসে?

আপনি কখনই দিবেন না। কারন, এটি অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং অনেকগুলো প্রসেস আপনাকে ফলো করতে হবে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা এড়ানোর জন্য আপনি মুহুর্তের মধ্যে চাইলে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে ওই বিষয়ে এক্সপার্ট এমন যে কাউকে আপনি ভাড়া করতে পারবেন। এটার জন্য আপনাকে তেমন কোন বাধা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে না।

কেনো উন্নত দেশগুলি আউটসোর্সিং এ বেশি জোর দিচ্ছে?

আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে অনেকে খেয়াল করেছে যে উন্নত দেশ গুলি আউটসোর্সিং এর উপরে অনেক বেশি জোর দিচ্ছে বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, এমনটা হওয়ার কারণ কি? কারণ খুবই সহজ, তাদের দেশে মজুরি অনেক বেশি অর্থাৎ সহজভাবে যদি বলিঃ আমেরিকান একটি কোম্পানির ওয়েবসাইট প্রয়োজন। সেই কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইট বানানোর জন্য আমেরিকান কোন ওয়েব ডেভলপার কে ভাড়া করতে চাই অথবা আমেরিকান কোন ওয়েব ডেভোলপমেন্ট কোম্পানিকে ওই প্রজেক্ট টা দিতে চাই সে ক্ষেত্রে তাকে অনেক টাকা গুনতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যদি আমেরিকান কারো কাছ থেকে করিয়ে নেয় সে ক্ষেত্রে তার প্রজেক্টের সম্পূর্ণ খরচ পড়বে ৫-৮ হাজার আমেরিকান ডলার। কিন্তু ওই একই কাজ যদি ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মত উন্নয়নশীল দেশের (যে দেশে মজুরি অনেক সস্তা) কেও করে দেয় তাহলে মাত্র ৫০০-২০০০ ডলারের মধ্যে কাজটি সম্পন্য করা যাবে।

এখানে শুধুমাত্র আমি একটি উদাহরণ দিয়েছি। এমন হাজারো কাজ আছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলো আমাদের মত স্বল্প মজুরির দেশের মানুষের কাছ থেকে করিয়ে নিচ্ছে। এতে করে তারা লাভবান হচ্ছে এবং আমাদের মতো দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তার যোগ্যতা অনুযায়ী সে কোথায় কাজ করবে?

আপনার যদি এমন কোন যোগ্যতা থাকে বা দক্ষতা থাকে যেটাকে আপনি কম্পিউটারের মাধ্যমে অন্য কাউকে বা কোন কোম্পানিকে/প্রতিষ্টানকে সেবা দিতে পারবেন তাহলে আপনি আজ থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারবেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আউটসোর্স করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবেন।

এখন আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে আপনি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী আপনার কাঙ্খিত ক্লায়েন্টকে পাবেন?

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে হবে সরাসরি ক্লায়েন্ট পাওয়াটা শুরুর দিকে একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যদি এক কথায় বলি তাহলে শুরুর দিকে আপনি সরাসরি কোনো ক্লায়েন্ট পাবেন না।  সেক্ষেত্রে আপনাকে মধ্যম একটি পন্থা অবলম্বন করতে হবে। যেটাকে আমরা বলি ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস অর্থাৎ আপনাকে যে কোন একটি ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস এর অধীনে একাউন্ট খুলতে হবে সেটার মাধ্যমে আপনাকে ক্লায়েন্ট খুঁজতে হবে আর সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রসেস এবং নিয়ম আছে যেগুলো আপনাকে সঠিক ভাবে পালন করতে হবে। তাহলেই আপনি খুব সহজে আপনার প্রহম ক্লাইন্ট পেয়ে যাবেন।

বর্তমানে জনপ্রিয় কয়েকটি ফ্রীল্যান্স মার্কেট প্লেস হচ্ছেঃ upwork, Fiverr, PeoplePerHour, Freelancer

আপনি চাইলে উপরের যেকোন একটি মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। আপনি চাইলে এখানে সব গুলা মার্কেট প্লেসে একাউন্ট খুলতে পারেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Riad Mahmud

Riad Mahmud

Sign up for our Newsletter

Scroll to Top

start your project today