আমি কাজ পারি, বিড করে যাচ্ছি কিন্তু কাজ পাচ্ছি না।

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

আমি মোটামুটি কাজ পারি এবং কাজ পাওয়ার জন্য মার্কেটপ্লেস গুলোতে বিড করে যাচ্ছি। তার পরেও কোন রেসপন্স পাচ্ছি না এটার সমাধান কিভাবে করতে পারি? কিভাবে বিড করলে আমি ক্লায়েন্টের থেকে রিপ্লাই দিতে পারি?

উপরের এই প্রশ্নগুলো শুধু আপনারা নয় এমন হাজারো তরুণ-তরুণী আছে যারা ফ্রিল্যান্সিং এ নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাচ্ছেন। এবং আপনাদের মত শুরুর দিকে আমার মনের মধ্যেও ঠিক এই ধরনের প্রশ্ন গুলি আসতো। কিন্তু সেই মুহূর্তে অনলাইনে এত বেশি পরিমানে রিসোর্স ছিল না। যে কারণে, এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া টা অনেকটা সোনার হরিণের মত ছিল। অনেক ঘাটাঘাটি করার পরে, অনেক আর্টিকেল, ব্লগ পোস্ট পড়ার পরে একটা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারতাম

আর সেই চিন্তা ধারা থেকে আজকে আমি আমার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব যাতে করে আপনারা বিড করলে ক্লায়েন্ট থেকে একটা রেসপন্স পান।

চলুন শুরু করা যাকঃ

প্রফাইল সাজানোঃ আপনার অ্যাকাউন্ট যদি একদমই নতুন হয় তাহলে, সে ক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইল টা খুব সুন্দর করে সাজাতে হবে যাতে করে ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইলে এসে যেন বুঝতে পারে যে হ্যাঁ আপনি আসলেই একজন প্রফেশনাল মানের ফ্রিল্যান্সার।

আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমার প্রোফাইলটা কিভাবে সাজালে একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার এর মত করে সাজাতে পারবো?

একদম সোজা সাপ্টা উত্তর সেটা হচ্ছে, আপনার ক্যাটাগরিতে যে যে সফল ফ্রিল্যান্সার গুলা কাজ করছে আপনি তাদেরকে ফলো করুন। ফলো করুন মানে এই নয় যে, তাদেরকে আপনার কপি করতে হবে। আপনাকে যেটা করতে হবে, তাদের প্রোফাইলে তারা কিভাবে ডেসক্রিপশন লিখছে? তারা কিভাবে টাইটেল দিয়েছে? তারা কিভাবে প্রফেশনাল ভাবে তাদের কাজের দক্ষতা কে ফুটিয়ে তুলছে সেটাকে খেয়াল করতে হবে। এর পরে আপনার নিজের প্রোফাইলটাকে তাদের থেকে ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। যদি ভালো করতে না পারেন এটলিস্ট চেষ্টা করবেন যেন তাদের সমানে সমানে হয়।

কথায় আছে আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী অর্থাৎ ক্লাইন্ট আগে আপনার প্রোফাইল দেখবে। তারপরে সে সিদ্ধান্ত নিবে সে আপনাকে কাজ দিবে কি না।

কপি-পেষ্ট কভার লেটারঃ আপনি যখন কোন জব পোস্টে আবেদন করতে যাবেন (বিড) তখন আপনাকে অবশ্যই জব পোস্ট টা খুব ভালো করে পড়তে হবে। আমাদের দেশে একটা প্রচলন আছে, আমি অনেককেই দেখেছি তারা জব পোস্ট ভালো করে না পড়ে কপি পেস্ট কভার লেটার ইউজ করে জব পোস্ট এর ক্ষেত্রে। এবং এর নানারকম ক্ষতিকর দিক রয়েছে সুতরাং এ ধরনের কপি পেস্ট করার  কভার লেটার থেকে আপনাকে দূরে থাকতে হবে।

  • কপি-পেস্ট কভার লেটার ব্যবহার করার কারণে আপনার এপ্লাই করা লেটারটি ক্লায়েন্টের স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যাবে।
  • আপনার কভার লেটারটি ক্লাইন্ট আর দেখতে পাবে না।
  • অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলাতে যারা কপি পেস্ট করে কভার লেটার ইউজ করে তাদের প্রোফাইল হাইড করে দেয়া হয়। এবং এটা আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না।
  • অনেক সময় দেখবেন বিড করে যাচ্ছেন কিন্তু কোন রেসপন্স পাচ্ছেন না। তখন ধরে নিবেন আপনার প্রফাইল টি ব্লাক লিস্ট হয়ে গেছে। সে জন্য আপনার করা বিড ক্লাইন্ট পর্যন্ত পৌছাচ্ছে না।

একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনাকে কাজ করতে হলে আপনাকে আপনার দক্ষতা প্রদর্শন করে কাজ নিতে হবে। এখানে কোন প্রকার দুনীতি করলে আপনার টিকে থাকতে কষ্টকর হয়ে যাবে।

আপনি কাজটি পারবেন কি না? বলতে গেলে প্রতি ঘন্টায় হাজার হাজার জব পোস্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে করা হয়। এখন আপনাকে যেটা করতে হবে, আপনার দক্ষতা অনুযায়ী আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কোন জব টি আপনার জন্য সব দিক থেকে পারফেক্ট।

আর এটা খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই মার্কেটপ্লেসে সময় দিতে হবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন হবে আপনি দেখবেন একটি জব পোস্ট হয়েছে, আপনার সে জবটা সম্পর্কে ৬০% আইডিয়া আছে এখন বাকি ৪০ শতাংশ আইডিয়া আপনার নেই। সেক্ষেত্রে আপনাকে যেটা করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব বাকি ৪০ শতাংশ আইডিয়া আপনি গুগল সার্চ করে বা ইউটিউব থেকে যে কোন মাধ্যম দিয়ে দ্রুত একটা ক্লিয়ার আয়ডিয়া নিতে পারবেন। তারপর আপনি যদি মনে হয় আপনি জবটা করতে পারবেন তখন খুব সুন্দর ভাবে আপনি ক্লাইন্ট এর জব পোষ্ট টাতে এপ্লাই করবেন। অন্যথায় না করা ভালো।

এখানে দুইটি বিষয় শেখার আছে প্রথমতঃ আপনি যে ৪০ %  কাজ জানতেন না সেটা মোটামুটি একটা আইডিয়া পেয়ে গেছেন। এখন আপনি যদি জবটা পেয়ে যান তাহলে আপনি আরো কিছু সময় নিয়ে ভালো মতো স্টাডি করে জবটা সম্পূর্ণ করতে পারবেন।

পাশাপাশি এখানে আপনার আয়ের সাথে সাথে নতুন কিছু স্কিল ডেভেলপমেন্ট হয়ে গেলো।

দ্বিতীয়তঃ আপনি যদি জব টা না পেয়েও থাকেন তাহলে হয়তো আপনার টাকা হবে না কিন্তু আপনার এই ৪০% যে স্কিল ডেভেলপ হয়ে গেল এটা আর কেও কেড়ে নিতে পারবে না। এভাবে আস্তে আস্তে মনের অজান্তেই স্কিল ডেভেলপ হয়ে যাবে নিজেও বুঝতে পারবেন না।

এভাবেই শিখতে শিখতে আপনি একজন এক্সপার্ট হয়ে যাবেন

কিভাবে খুব সহজে কভার লেটার লিখবেন? এমন অনেকেই আছে হয়তো কভার লেটার জিনিসটা কি এটা নাও বুঝতে পারেন। কারন শুরুর দিকে আমি নিজেও বুঝতে পারতাম না 😛  কভার লেটার হচ্ছে আপনি ক্লায়েন্টের জব পোস্টে যে দরখাস্তটি করবেন সেটিকেই কভার লেটার বলা হয়।

কভার লেটার নিয়ে অনেকেরই অনেক রকমের মন্তব্য আছে। কিন্তু আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদেরকে বলতে পারি, আপনি যদি কভার লেটার টা কে একটু সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারেন এবং ক্লায়েন্টের কাজের উপর ভিত্তি করে আপনি যদি ক্লায়েন্ট কে বোঝাতে পারেন যে আপনি তার ওই কাজের জন্য পারফেক্ট। কিভাবে আপনি কাজটি করে দিবেন সেটিও চাইলে আপনি কভার লেটারে বলে দিতে পারেন। এতে করে ওই ক্লাইন্ট ধারণা করবে যে, আপনি হয়ত কাজটি অবশ্যই জানেন। যে কারণে কিভাবে করতে হয় সেটাও আপনি বলে দিতে পারছেন সুতরাং এখানে ক্লাইন্টের ফিরতি মেসেজ পাওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ।

আর চেষ্টা করবেন জব পোস্ট হওয়ার ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আপনার আবেদনটি করে ফেলতে। যদি আপনি এর থেকে বেশি সময় নিয়ে থাকেন তাহলে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট আপনার আবেদন করার আগে অন্য কারো সাথে হয়তবা চুক্তি করে ফেলবে কাজের ব্যপারে।

তার পরেও আমি বলবো ধরয্য ধরুন। এবং যতটা সুন্দর ভাবে পারেন নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করুন।

কভার লেটারে অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবেন না। আপনি কত বছর ধরে কাজ করছেন? আপনি কি কি পারেন? আপনার কি কি অভিজ্ঞতা আছে? ইত্যাদি ইত্যাদি।এত কিছু লেখার দরকার নেই। ক্লাইন্ট যদি চায় সে ক্ষেত্রে বলতে পারেন। সুতরাং, চেষ্টা করবেন মুল জব পোষ্টের উপর ভিত্তি করে সুন্দরভাবে কভার লেটার উপস্থাপন করার। এতে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

এমন অনেকে অনেক বিজি বিজি লিখে কভার লেটার ভর্তি করে ফেলে। সে কোথায় পড়াশোনা করছে? সে কি কি কাজ পূর্বে করছে? তার কি কি স্কিল আছে? ইত্যাদি নানান ধরনের তথ্য যুক্ত করে দেয়। আসলে যদি আপনার কাছে এগুলোর ব্যাপারে ক্লাইন্ট জানতে চায়, তাহলে শুধুমাত্র আপনি লিখতে পারেন। অন্যথায় এগুলোর কিছুই লেখার দরকার নেই। ক্লাইন্ট চাইলে এই তথ্য গুলা আপনার প্রোফাইল থেকে জেনে আসতে পারবে।

আপনি যদি আমার উপরে লেখা গুলা খুবই মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন, আর বুঝতে পারেন। তাহলে আশা করি আজকে থেকে যদি আপনি জব পোস্ট শুরু করেন আজকেই আপনার কোনো না কোনো নতুন ক্লাইন্টের থেকে রিপ্লাই পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

এই পোষ্ট থেকে আপনার যদি আরো কিছু জানার থাকে বা আরো কোন প্রশ্ন থাকে! তাহলে অবশ্যই আপনার মূল্যবান প্রশ্নটি কমেন্ট বক্সে করে ফেলুন। ধন্যবাদ সবাইকে। হ্যাপি ফ্রিল্যান্সিং 😀

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Riad Mahmud

Riad Mahmud

Sign up for our Newsletter

Scroll to Top

start your project today