সেরা ৪টি অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

ফ্রিল্যান্সিং এই নামটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। ইতিমধ্যে আপনি হয়তো আমার ব্লগে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট পড়েছেন। এখন আপনার মাথায় কয়েকটি প্রশ্ন আসতে পারে, ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে কোথায় জব এর জন্য আবেদন করতে হয়? এবং কোথায় আমি আমার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পাবো? যদিও আমি এ নিয়ে বিগত কয়েকটি পোস্টে আলোচনা করেছি। সেই আলোচনা গুলো ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কিন্তু আজকে আমি আপনাদের সাথে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আজ আমি আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব সেরা ৪টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। যেখানে আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী খুব সহজেই কাজ খুজে পাবেন। পাশাপাশি বিগিনার হওয়ার কারণে খুব বেশি না হলেও মোটামুটি একটি স্মার্ট ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।

ওয়েবসাইট গুলোর লিস্ট দেওয়ার আগে চলুন আপনাদের সাথে একটু আলোচনা করি যে, এই ওয়েবসাইটগুলো আসলে কিভাবে কাজ করে?

ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস গুলোর কাজ হচ্ছে আপনার এবং বায়ারের মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি করে দেওয়া। উভয় পক্ষের মধ্যে আর্থিক লেনদেন এবং কাজের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। যাতে করে উভয় পক্ষের কেউই প্রতারণার শিকার না হয়।

অর্থাৎ ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস গুলো মধ্যমপন্থী হিসেবে কাজ করে। তারা যে সিকিউরিটি এবং বিশ্বস্ততা আপনার ক্লাইন্ট এবং আপনার মধ্যে নিশ্চয়তা করে দেয়, এটার জন্য তারা (ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস গুলা) নির্দিষ্ট পরিমাণে কিছু অর্থ (পার্সেন্টেজ হিসাবে) আপনার অর্জিত অর্থ থেকে কেটে নেয়।

কিভাবে এই মার্কেটপ্লেস গুলা কাজ করে? 

ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস গুলি সাধারণত একই নিয়মে কাজ করে থাকে। এখানে মুলত “ক্লাইন্ট” অর্থাৎ যিনি সার্ভিস নিতে চান এবং “ফ্রিল্যান্সার” যিনি সার্ভিস দিতে চানত উভয়ের মধ্যে একটা যোগ সুত্র স্থাপন করে থাকে।

এখানে, প্রথমে ক্লাইন্ট ঠিক কি ধরনের সার্ভিস ফ্রিল্যান্সারদের থেকে নিতে চান সেই ধরনের জব পোষ্ট করেন। এবং যারা সার্ভিস দিতে চান অর্থাৎ “ফ্রিল্যান্সরা” সেই জব পোস্টে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী আবেদন করেন।

পরবর্তী ধাপে জব পোস্ট করা ওই ক্লায়েন্ট যদি, আপনার আবেদন (বিড) করাকে পছন্দ করে এবং মনে করে যে, আপনি তার কাজের জন্য একদম পারফেক্ট। তাহলে তিনি আপনাকে সিলেক্ট করবে। আপনার সাথে আরো কিছু কথপকথন হওয়ার পরে উনি আপনাকে হায়ার করবে (ভাড়া করবে)/ কাজের জন্য সিলেক্ট করবে।

আর ঠিক এভাবেই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলি কাজ করে।

১। আপওয়ার্কআপওয়ার্ক হচ্ছে একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস গুলার মধ্যে বর্তমানে আপওয়ার্ক এক নাম্বার পজিশন এ আছে। দেশি-বিদেশি ফ্রিল্যান্সার মিলিয়ে সর্বমোট ১ কোটিরও বেশি ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করছে।

আপওয়ার্ক যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৩ সালে। কিন্তু, সেই সময়ে এই মার্কেটপ্লেস এর নাম ছিল ওডেস্ক যারা অনেক আগে থেকেই ফ্রিল্যান্সিংএর সাথে যুক্ত ছিলেন তারা ওডেস্ক সম্পর্কে শুনেছেন কিন্তু পরবর্তীতে ওডেস্ক থেকে আপওয়ার্ক নামকরণ করা হয় ২০১৫ সালে।

Upwork – এ সেলাররা মূলত দুই ভাবে কাজ করেঃ

  1. আওয়ারলি কাজ (Hourly Job)ঃ যেখানে আপনাকে প্রতি ঘন্টায় পেমেন্ট করবে এবং ক্লাইন্ট আপনার সাথে ঘন্টা চুক্তিতে কাজ করবে। যদি ক্লাইন্ট আপনার সাথে ৪০ ডলার প্রতি ঘন্টায় চুক্তিবদ্ধ হয় তাহলে আপনাকে তিনি প্রতি ঘন্টায় ৪০ ডলার দিয়ে দিবে। আর এই সম্পুর্ণ প্রসেসটা অটোমেটিক্যালি হয়ে যাবে। আপনার একাউন্টে প্রতি ঘন্টার টাকা নিজে থেকেই জমা হয়ে যাবে।
  2. ফিক্সড প্রাইস (Fixed Price Job)ঃ ফিক্সড প্রাইস জব বলতে মূলত ক্লাইন্ট একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকার অংক বলে দিবে। তিনি তার প্রজেক্ট এর জন্য কত টাকা বাজেট রেখেছে সেটা তার জব পোস্টে বলে দিবে। এবং আপনাকে তার জব পোস্টে আবেদন করার সময় উল্লেখ করতে হবে, সেই কাজটা কত টাকা হলে আপনি করে দিতে পারবেন। হতে পারে আপনি তার কাছে তার বাজেটের থেকেও বেশি দাবি করেছেন কিংবা তার বাজেটের থেকেও কম দাবি করেছেন।

আপওয়ার্ক থেকে সরাসরি আপনি আপনার আয়কৃত অর্থ আপনার লোকাল ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে পারবেন। এ ছাড়াও আরো বিভিন্য রকমের পেমেন্ট মেথড আছে যেগুলা আপনি ব্যবহার করতে পারেন। যেমনঃ পেওনিয়ার ডেবিট মাস্টারকার্ড, মানিবুকার্স, পেপাল ইত্যাদি।

২। ফাইবার এই ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসটি ২০১০ সালে তাদের যাত্রা শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। নতুনদের জন্য ফাইবার পারফেক্ট একটি প্লাটফর্ম। যেখানে, আপনি নতুন হিসেবে খুব সহজেই কাজ পেতে পারেন। আপনার বাছাই করা কাজের উপর যদি ভালো দক্ষতা থাকে তাহলে ফাইবার মার্কেটপ্লেস থেকে আপনি অনেক বেশি পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ফাইবার কিভাবে কাজ করে? ফাইবারে সেলার হিসেবে আপনাকে গিগ বানাতে হবে। আপনি যে ধরনের কাজ বাস সার্ভিস আপনার ক্লাইন্টকে দিতে চান, সেই ধরনের কাজ বা সার্ভিসের উপরে আপনাকে গিগ বানাতে হবে। ক্লাইন্ট আপনার প্রোফাইলে এসে তার প্রয়োজনীয় গিগটি অর্ডার করবে এবং আপনাকে হায়ার করবে।

একজন সেলার হিসাবে ফাইবারে আপনি সর্বনিম্নে পাঁচ ডলার থেকে আপনার সার্ভিস দিতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ হাজার হাজার ডলারেরও বেশি আপনি আপনার সার্ভিস বিক্রি করতে পারবেন। এখানে কোন ধরাবাধা নিয়ম কানুন নেই সার্ভিস বা গিগ সেল করার ক্ষেত্রে।

কিন্তু ফাইবার মার্কেটপ্লেস টি তাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশন এর উপরে খুব বেশি জোর দেয়। আপনি যদি তাদের কোনো রুলস বা আইন কানুন ভঙ্গ করেন তাহলে, আপনাকে তারা কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়ত আপনাকে সতর্ক করে দিবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু না জানিয়েই আপনার একাউন্ট তারা হোল্ড করে দিতে পারে।

সুতরাং ফাইবার এ কাজ করার আগে আপনাকে অবশ্যই তাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশন সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা নিতে হবে। ফাইবারের টার্মস এন্ড কন্ডিশন গুলা জানতে এখানে ক্লিক করুন

আর ফাইবার সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ফাইবার হেল্প বাংলাদেশ ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হতে পারেন।

এর পরেও ফাইবার নিয়ে যদি আরো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে বাংলাদেশের সর্ব প্রথম ফাইবার মার্কেটপ্লেস নিয়ে কমপ্লিট ভিডিও কোর্স টি দেখে নিতে পারেন। আমার দেখা এই কোর্সটি সব দিক থেকে পারফেক্ট যারা ফাইবারে কাজ করতে চায় তাদের জন্য। কোর্সটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

৩। ফ্রিল্যান্সারফ্রিল্যান্সার এই ওয়েবসাইটটি অনেক পুরাতন একটি ওয়েবসাইট। যেখানে বর্তমানে কাজ পাওয়া নতুনদের জন্য খুবই কষ্টকর। এখানে প্রতিযোগী অনেক সুতরাং আপনি যদি মোটামুটি কাজ জেনে এখানে কাজ করতে আসে তাহলে এই প্ল্যাটফর্ম টা আপনার জন্য না।

কিন্তু আপনি যদি ২-৩ বছর কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে আসেন তাহলে আপনি এখানে খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।

আপনি হয়তো বলতে পারেন, আপনার পরিচিত অনেকেই আছে, যারা নতুন হয়েও ফ্রিল্যান্সারে অনেক ভালো কাজ করছে। হ্যা এটা সত্য। কিন্তু, সে ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি বিশেষ কাজের ভিন্নতা আছে। অর্থাৎ, কিছু কিছু ক্যাটাগরি আছে যেখানে অনেক বেশি কম্পিটিশন। আর কিছু কিছু ক্যাটাগরি আছে যেখানে খুব কম কম্পিটিশন আছে। আপনি যদি অল্প কম্পিটিশন আছে এমন ক্যাটাগরি বাছাই করে এখানে কাজ করতে চান তাহলে এখানে কাজ পাওয়াটা আপনার জন্যে অনেক সহজ হবে।

ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক মতোই কাজ করে অর্থাৎ এখানে দুই ধরনের জব পোষ্ট করা হয়। একটি ফিক্সড প্রাইস এবং অন্যটি আওয়ারলি প্রাইস সুতরাং পদ্ধতিটা একই রকম শুধু নামটা আলাদা।

৪।পিপল-পার-আওয়ারঃ পিপল-পার-আওয়ার এই মার্কেটপ্লেস কিছুটা ফাইবার এর মত কাজ করে আবার কিছুটা আপওয়ার্ক এর মত কাজ করে এটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক নামকরা একটি ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস।

এখানে চাইলে আপনি ঘন্টা চুক্তিতে কাজ করতে পারবেন। আবার ফাইবারের মত গিগ সেল করতে পারবেন, আবার ফিক্সড প্রাইসেও ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে পারবেন। সুতরাং, এখানে ক্লাইন্ট আপনাকে ৩ ভাবে হায়ার (ভাড়া) করতে পারবে।

আপনি চাইলে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আমার আরো কিছু লেখা পড়তে পারেনঃ 
ফ্রিল্যান্সিংএ একদমই নতুন, কিছুই জানিনা! কিন্তু শুরু করতে চাই।
এখনই উপযুক্ত সময় অনলাইনে আপনার ক্যারিয়ার গঠন করার।
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চাচ্ছেন! তাহলে এই পোষ্টটা পড়ে ফেলুন যটপট

শেষ কথাঃ

আশা করি উপরের চারটি মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আপনি পরিপূর্ণ একটি ধারণা পেয়ে গেছেন। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। আপনার দক্ষতা বাড়ানোর পরে যেকোনো একটি মার্কেটপ্লেসে নেমে পড়ুন এবং আপনার ফ্রিল্যান্সিং জার্নি শুরু করে দিন। কিন্তু আমি সাজেস্ট করব আপনার জার্নিটা ফাইবার মার্কেটপ্লেস দিয়ে শুরু করুন।

নোটঃ আপনি কোন একটি বিষয়ে ভালো মত দক্ষ না হয়ে এই মার্কেটপ্লেস গুলাতে একাউন্ট খুলবেন না।

1 thought on “সেরা ৪টি অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।”

  1. আপনার পোষ্টটি অনেক ভালো লেগেছে । অনেক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন । এই ধরনের পোষ্ট পেলে আমরা (আমার মতো নতুন যারা) অনেক কিছু শিখতে পারবো আশা করি ।
    ধন্যবাদ পোষ্টটি করার জন্য ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Riad Mahmud

Riad Mahmud

Sign up for our Newsletter

Scroll to Top

start your project today